ভারত ও তুরস্কের নাগরিক-প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০১:১৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / 3

ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৪ নভেম্বর) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ইরান সরকারকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থ জোগাতে ইরান যেন তেল বিক্রি করতে না পারে, সেই সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের এক দিন পর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এল। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় ভোটারদের ক্ষোভ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে।

এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের পদক্ষেপে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দর নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।

বুধবারের নিষেধাজ্ঞায় ভারতের নাগরিক সুনীল কুমার শর্মা, তার স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহিদ এবং ওই দম্পতির দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান আরও দুই ভারতীয় নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ ছাড়া শর্মার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও নয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এই গোষ্ঠীকে একটি ‘বিস্তৃত অপরাধী চক্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চক্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজগুলোকে ইরানি পেট্রোলিয়াম পরিবহনে সহায়তা করতে ভুয়া পতাকা ও নথিপত্র সরবরাহ করেছে। এসব জাহাজের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হয়ে পরিচালিত জাহাজও রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভুয়া পতাকা ও সামুদ্রিক সনদ ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলতে পারে। এসব জাহাজের কোনো ক্ষতিপূরণমূলক বিমাও থাকে না। ফলে অন্য দেশের জলসীমায় চলাচলের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

এ ছাড়া ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশটির বিমান চলাচল খাতকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে তুরস্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, তেহরানকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি আপনারা কোথায় আছেন। স্থলপথ, সমুদ্রপথ কিংবা আকাশপথে যারা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রেট এরিকসন বলেন, বুধবারের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন শক্ত বার্তা দিয়েছে যে নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেলেও ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Dhaka

১০

ভারত ও তুরস্কের নাগরিক-প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

০১:১৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৪ নভেম্বর) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ইরান সরকারকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থ জোগাতে ইরান যেন তেল বিক্রি করতে না পারে, সেই সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের এক দিন পর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এল। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় ভোটারদের ক্ষোভ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে।

এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের পদক্ষেপে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দর নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।

বুধবারের নিষেধাজ্ঞায় ভারতের নাগরিক সুনীল কুমার শর্মা, তার স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহিদ এবং ওই দম্পতির দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান আরও দুই ভারতীয় নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ ছাড়া শর্মার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও নয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এই গোষ্ঠীকে একটি ‘বিস্তৃত অপরাধী চক্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চক্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজগুলোকে ইরানি পেট্রোলিয়াম পরিবহনে সহায়তা করতে ভুয়া পতাকা ও নথিপত্র সরবরাহ করেছে। এসব জাহাজের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হয়ে পরিচালিত জাহাজও রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভুয়া পতাকা ও সামুদ্রিক সনদ ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলতে পারে। এসব জাহাজের কোনো ক্ষতিপূরণমূলক বিমাও থাকে না। ফলে অন্য দেশের জলসীমায় চলাচলের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

এ ছাড়া ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশটির বিমান চলাচল খাতকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে তুরস্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, তেহরানকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি আপনারা কোথায় আছেন। স্থলপথ, সমুদ্রপথ কিংবা আকাশপথে যারা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রেট এরিকসন বলেন, বুধবারের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন শক্ত বার্তা দিয়েছে যে নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেলেও ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স