ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নিয়ে পুনর্গঠন হবে উত্তর বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০২:৪৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / 5

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কমিটির সামনে এখন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন পুনর্গঠন, অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং-কোন্দল নিরসন এবং চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ থেকে দলকে বের করে আনার চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাই এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিয়েও রয়েছে প্রত্যাশা। এসব বিষয়ে কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খোলা কাগজের প্রধান প্রতিবেদক আলতাফ হোসেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে নতুন কমিটির মাধ্যমে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে চান?

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ফ্যাসিবাদী শাসনামলের কারণে আমরা সেভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারিনি। এরপর নির্বাচন হয়েছে এবং নির্বাচনের আট মাস পর কমিটি দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের মূল কাজ হলো, নতুন আহ্বায়ক কমিটির পাশাপাশি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সংগঠন পুনর্গঠন করা। বিভিন্ন কর্মসূচি ও কর্মীসভার মাধ্যমে যোগ্য নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করা হবে। যারা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে দলের জন্য জীবন দিয়েছেন, জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন এবং ৫ আগস্টের পর দলের কোনো বদনাম করেননি, সমাজে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ও সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন, তাদের নিয়ে সংগঠন পুনর্গঠন করা হবে। এভাবে দলকে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাই।

দলের মধ্যে একাধিক গ্রুপ বা নেতাভিত্তিক বলয় দেখা যায়। এসব দলীয় কোন্দল নিরসনে আপনাদের কৌশল কী হবে?

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: এখন দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কমিটি গঠনের সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। একাধিক প্রার্থী থাকতে পারেন, তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও হবে। তবে কোনো গ্রুপকে আমরা প্রাধান্য দেব না বা প্রশ্রয় দেব না। এখানে কোনো গ্রুপ নেই, সবাই বিএনপির কর্মী।

আগের কমিটির সময় চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব থেকে বেরিয়ে আসতে আপনাদের পদক্ষেপ কী হবে?

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: সর্বপ্রথম নিজেকে ভালো হতে হবে। আমি নিজে ভালো হলে জগতটাও ভালো হবে, এমন একটা কথা আছে। আমরা নিজেরা ভালো থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ভালো কর্মী বাছাই করব, তাদের দলে যুক্ত করব এবং নেতৃত্বের সুযোগ দেব। আমরা কখনো কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী বা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে দলীয় নেতৃত্ব দিইনি, ভবিষ্যতেও দেব না। ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে কমিটি গঠন করতে পারলে এ ধরনের সমস্যা সামনে আসবে না বলে আশা করি।
আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি ও আমাদের আহ্বায়ক দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরে রাজনীতি করছি। গত ৪০ বছর ধরে আমাদের কর্মীরা পরীক্ষিত। ইনশাআল্লাহ, এখানে এ ধরনের সমস্যা হবে না। দলের বর্তমান অবস্থান থেকে আমরা ভালো নেতৃত্ব বের করে আনতে পারব বলে বিশ্বাস করি।

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আপনাদের ভূমিকা কী থাকবে?

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: কাউকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো একজন ভালো প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া। সেই প্রার্থীকে নির্বাচিত করার দায়িত্ব এলাকার জনগণের। ভোটাররা যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই ভোট দেবেন। এটাই বাস্তবতা। আগের নির্বাচনগুলোতে আপনারা দেখেছেন, আগামী নির্বাচনেও দেখবেন, ভোটারদের কাছে যারা জনপ্রিয়, তারাই মনোনয়ন পাবেন এবং জনগণ তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। আমাদের কাজ হলো যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া।

আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। কমিটিতে সুবিধাভোগী বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যাতে অভিযোগ না ওঠে, সে ক্ষেত্রে কতটা সতর্ক থাকবেন?

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: আমরা সবাইকে চিনি ও জানি। তারপরও একটি বড় কমিটি গঠন করতে গেলে সামান্য বিচ্যুতি হতে পারে। তবে আমরা শতভাগ সততা বজায় রেখে কমিটি গঠনের চেষ্টা করব। নির্ভুল একটি কমিটি দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আশা করি, আমরা সেটা করতে পারব। ৫১ সদস্যের ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাকর্মীদের চেনা ও যাচাই করা আমাদের জন্য খুব একটা কঠিন কাজ নয়।

ট্যাগ :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নিয়ে পুনর্গঠন হবে উত্তর বিএনপি

০২:৪৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কমিটির সামনে এখন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন পুনর্গঠন, অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং-কোন্দল নিরসন এবং চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ থেকে দলকে বের করে আনার চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাই এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিয়েও রয়েছে প্রত্যাশা। এসব বিষয়ে কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খোলা কাগজের প্রধান প্রতিবেদক আলতাফ হোসেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে নতুন কমিটির মাধ্যমে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে চান?

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ফ্যাসিবাদী শাসনামলের কারণে আমরা সেভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারিনি। এরপর নির্বাচন হয়েছে এবং নির্বাচনের আট মাস পর কমিটি দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের মূল কাজ হলো, নতুন আহ্বায়ক কমিটির পাশাপাশি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সংগঠন পুনর্গঠন করা। বিভিন্ন কর্মসূচি ও কর্মীসভার মাধ্যমে যোগ্য নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করা হবে। যারা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে দলের জন্য জীবন দিয়েছেন, জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন এবং ৫ আগস্টের পর দলের কোনো বদনাম করেননি, সমাজে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ও সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন, তাদের নিয়ে সংগঠন পুনর্গঠন করা হবে। এভাবে দলকে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাই।

দলের মধ্যে একাধিক গ্রুপ বা নেতাভিত্তিক বলয় দেখা যায়। এসব দলীয় কোন্দল নিরসনে আপনাদের কৌশল কী হবে?

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: এখন দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কমিটি গঠনের সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। একাধিক প্রার্থী থাকতে পারেন, তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও হবে। তবে কোনো গ্রুপকে আমরা প্রাধান্য দেব না বা প্রশ্রয় দেব না। এখানে কোনো গ্রুপ নেই, সবাই বিএনপির কর্মী।

আগের কমিটির সময় চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব থেকে বেরিয়ে আসতে আপনাদের পদক্ষেপ কী হবে?

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: সর্বপ্রথম নিজেকে ভালো হতে হবে। আমি নিজে ভালো হলে জগতটাও ভালো হবে, এমন একটা কথা আছে। আমরা নিজেরা ভালো থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ভালো কর্মী বাছাই করব, তাদের দলে যুক্ত করব এবং নেতৃত্বের সুযোগ দেব। আমরা কখনো কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী বা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে দলীয় নেতৃত্ব দিইনি, ভবিষ্যতেও দেব না। ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে কমিটি গঠন করতে পারলে এ ধরনের সমস্যা সামনে আসবে না বলে আশা করি।
আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি ও আমাদের আহ্বায়ক দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরে রাজনীতি করছি। গত ৪০ বছর ধরে আমাদের কর্মীরা পরীক্ষিত। ইনশাআল্লাহ, এখানে এ ধরনের সমস্যা হবে না। দলের বর্তমান অবস্থান থেকে আমরা ভালো নেতৃত্ব বের করে আনতে পারব বলে বিশ্বাস করি।

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আপনাদের ভূমিকা কী থাকবে?

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: কাউকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো একজন ভালো প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া। সেই প্রার্থীকে নির্বাচিত করার দায়িত্ব এলাকার জনগণের। ভোটাররা যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই ভোট দেবেন। এটাই বাস্তবতা। আগের নির্বাচনগুলোতে আপনারা দেখেছেন, আগামী নির্বাচনেও দেখবেন, ভোটারদের কাছে যারা জনপ্রিয়, তারাই মনোনয়ন পাবেন এবং জনগণ তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। আমাদের কাজ হলো যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া।

আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। কমিটিতে সুবিধাভোগী বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যাতে অভিযোগ না ওঠে, সে ক্ষেত্রে কতটা সতর্ক থাকবেন?

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন: আমরা সবাইকে চিনি ও জানি। তারপরও একটি বড় কমিটি গঠন করতে গেলে সামান্য বিচ্যুতি হতে পারে। তবে আমরা শতভাগ সততা বজায় রেখে কমিটি গঠনের চেষ্টা করব। নির্ভুল একটি কমিটি দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আশা করি, আমরা সেটা করতে পারব। ৫১ সদস্যের ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাকর্মীদের চেনা ও যাচাই করা আমাদের জন্য খুব একটা কঠিন কাজ নয়।