কানাডার সঙ্গে ‘শিগগিরই’ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হবে : ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট
  • ০২:২০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কানাডার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি ‘খুব শিগগিরই’ সম্পন্ন হবে। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র নয় দিন আগে রোববার এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর গত আগস্ট থেকে উত্তর আমেরিকার প্রতিবেশী দুই দেশ— যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জেরে ট্রাম্প কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর একের পর এক নতুন করে শুল্ক আরোপ করেন।

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কানাডা সীমান্তবর্তী শহর পোর্ট হুরনে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই বিষয়টির নিষ্পত্তি করব। এই মুহূর্তে তারা আমাদের যেকোনো কিছু দিতে প্রস্তুত।’

শহরটি ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সমাবেশে ট্রাম্প আবারও কানাডার ওপর আরোপিত শুল্কের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করে আসছে।

গত আগস্টে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আরোপিত শুল্কের আওতায় পড়ে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে হকি খেলার স্টিক থেকে শুরু করে সিমেন্টও রয়েছে।

এর জবাবে কানাডাও সমপরিমাণ মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ট্রাম্প পরে কিছু পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করেন।

তবে শুক্রবার হোয়াইট হাউস এসব শুল্কের কিছু অংশ প্রত্যাহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্য মেইনের সিনেটর সুসান কলিন্সের অনুরোধের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মেইন অঙ্গরাজ্য তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আগামী মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে চায় ডেমোক্র্যাটরা। এ লক্ষ্যে তারা কলিন্সের আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন।
তার অভিযোগ, বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অন্যায্য সুবিধা নিয়ে আসছে।

এ ছাড়া, তিনি কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের হুমকিকে সরাসরি রাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন।

ট্যাগ :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কানাডার সঙ্গে ‘শিগগিরই’ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হবে : ট্রাম্প

০২:২০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কানাডার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি ‘খুব শিগগিরই’ সম্পন্ন হবে। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র নয় দিন আগে রোববার এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর গত আগস্ট থেকে উত্তর আমেরিকার প্রতিবেশী দুই দেশ— যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জেরে ট্রাম্প কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর একের পর এক নতুন করে শুল্ক আরোপ করেন।

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কানাডা সীমান্তবর্তী শহর পোর্ট হুরনে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই বিষয়টির নিষ্পত্তি করব। এই মুহূর্তে তারা আমাদের যেকোনো কিছু দিতে প্রস্তুত।’

শহরটি ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সমাবেশে ট্রাম্প আবারও কানাডার ওপর আরোপিত শুল্কের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করে আসছে।

গত আগস্টে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আরোপিত শুল্কের আওতায় পড়ে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে হকি খেলার স্টিক থেকে শুরু করে সিমেন্টও রয়েছে।

এর জবাবে কানাডাও সমপরিমাণ মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ট্রাম্প পরে কিছু পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করেন।

তবে শুক্রবার হোয়াইট হাউস এসব শুল্কের কিছু অংশ প্রত্যাহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্য মেইনের সিনেটর সুসান কলিন্সের অনুরোধের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মেইন অঙ্গরাজ্য তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আগামী মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে চায় ডেমোক্র্যাটরা। এ লক্ষ্যে তারা কলিন্সের আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন।
তার অভিযোগ, বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অন্যায্য সুবিধা নিয়ে আসছে।

এ ছাড়া, তিনি কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের হুমকিকে সরাসরি রাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন।