বান্দরবানে পাহাড়ি সংস্কৃতি সুরক্ষায় এক বছরের মধ্যে উন্নত কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর
- ০৪:১৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, এমপি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি। পরিদর্শন শেষে ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য ও লোকজ জ্ঞান সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপির সভাপতিত্বে এবং প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু, এমপি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি। সভায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। একটি সংস্কৃতিমনস্ক ও মেধাবী জাতি গঠনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, লোকসংগীত, নৃত্য, পোশাক, উৎসব ও অনন্য ঐতিহ্য আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে বহুগুণে সমৃদ্ধ করেছে। এই অমূল্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সফলভাবে পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় সংস্কৃতির সঠিক বিকাশে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি বলেন, ঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, এমপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পাহাড়ের প্রতিটি জাতিস্বত্তার মানুষের নিজস্ব স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় ও গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে। এসব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে একদিকে যেমন স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক দিগন্ত আরও প্রসারিত ও সমৃদ্ধ হবে। মন্ত্রী সাচিং প্রু আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, শিল্প, ইতিহাস, ঐতিহ্যবাহী পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই সামগ্রিক বাংলাদেশের উন্নয়ন উল্লেখ করে মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কিংবা সমতল—বাংলাদেশের যে প্রান্তেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করুক না কেন, তাদের নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতির সুরক্ষা, আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও তাঁর সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এমপি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকল জাতি, গোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সাম্যের বন্ধনে আবদ্ধ একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই বান্দরবান জেলায় একটি অত্যাধুনিক ও উন্নত মানের কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি, থানচি উপজেলায় অবস্থিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউটটিকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আরও আধুনিক ও উন্নত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হবে।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাঁদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও সংস্কৃতিচর্চার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক এস এম মনজুরুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামণি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসানসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।













