পেলে-ম্যারাডোনা কখনও ব্যালন ডি’অর জেতেননি কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০২:১৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0

ব্যালন ডি’অরের স্বাদ প্রথমবার পাওয়ার দৌড়ে আছেন হ্যারি কেইন, লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু আগের বিজয়ী ও এবারের ডার্ক হর্স লিওনেল মেসি ও রদ্রি তাদের সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন। এর আগে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, মিচেল প্লাতিনি, ইয়োহান ক্রুইফ, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইউসেবিও, জিনেদিন জিদান ও রোনালদো। বড় বড় মাত্র কয়েকজন তারকার নাম এখানে, এর বাইরে আরও অনেক গ্রেট সোনালি বল হাতে নিয়েছেন।

কিন্তু বাদ থাকার তালিকায় উল্লেখযোগ্য নামগুলোর শীর্ষে আছেন পেলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ফুটবলের কথা ভাবলেই যাদের চেহারা সবার আগে সামনে ভেসে ওঠে, যারা নিজ নিজ দেশ ও ক্লাবকে এনে দিয়েছেন গৌরবের অধ্যায়! সেই দুই গ্রেট কখনও ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার পেলেন না কেন, সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

কেন পেলে ও ম্যারাডোনা কখনও ব্যালন ডি’অর জেতেননি?

বিজ্ঞাপন

১৯৫৬ সালে চালু হওয়া এই ব্যালন ডি’অর আসলে দেওয়া হতো কেবল ইউরোপের খেলোয়াড়দের। অনেক সময় একে ইউরোপিয়ান বর্ষসেরা ফুটবলার অ্যাওয়ার্ডও বলা হতো। শুরু থেকে চলা এই নিয়মে পরিবর্তন আসে ১৯৯৫ সাল থেকে। ওই বছর থেকে এই পুরস্কারের জন্য ইউরোপিয়ান ক্লাবে খেলা যে কোনো দেশের খেলোয়াড়দের যোগ্য হিসেবে ধরা হতো। তাতে করে ওই বছরই প্রথম অ-ইউরোপিয়ান বিজয়ী হিসেবে এই পুরস্কার পান এসি মিলানের লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার জর্জ উইয়াহ। তারপর থেকে মেসি, ব্রাজিলিয়ান রোনালদো, রোনালদিনহো, রিভালদো ও কাকার হাতে উঠেছিল বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক ব্যক্তিগত পুরস্কার।

২০০৭ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মানে যে কোনো দেশের ফুটবলে খেলা খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অরের জন্য যোগ্য বিবেচিত হন। যদিও এর প্রভাব খুব একটা দেখা যায়নি। সাধারণত ইউরোপিয়ান ক্লাবের খেলোয়াড়দের হাতেই উঠেছে পুরস্কার। তবে এই নিয়মের শতভাগ সুবিধা পেয়েছেন মেসি। আগের নিয়ম থাকলে ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে খেলতে থাকা আর্জেন্টাইন তারকা পুরস্কার জিততে পারতেন না।

তবে পেলে ও ম্যারাডোনা কখনও এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হননি মূলত শুরুর দিকের নিয়মের কারণে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করা ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার তার খেলোয়াড় ক্যারিয়ার শেষ করেন ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্ক কসমসে, প্রথম নন-ইউরোপিয়ান ব্যালন ডি’অর জয়ীর প্রায় ২০ বছর আগে তিনি অবসরে যান।

আর ম্যারাডোনা ওই নিয়ম চালুর দুই বছর আগে ইউরোপিয়ান ফুটবলকে বিদায় জানান। ১৯৮২ সাল থেকে বার্সেলোনায় দুই বছর খেলার পর নাপোলিতে যোগ দেন তিনি। সেখানে সাত বছর কাটান। কোকেইন নিয়ে ড্রাগ টেস্টে ধরা পড়ে ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ১৯৯২ সালে ইতালিয়ান ক্লাব ছেড়ে দেন। রিয়াল মাদ্রিদ ও মার্শেইর আগ্রহ থাকলেও সেভিয়াতে চুক্তি করেন এক বছরের জন্য। ইউরোপে ১১ বছর খেলে ১৯৯৩ সালে আর্জেন্টিনায় ফিরে যোগ দেন নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে। ১৯৯৭ সালে ক্যারিয়ারের শেষটা করেন বোকা জুনিয়র্সে খেলে।

ট্যাগ :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পেলে-ম্যারাডোনা কখনও ব্যালন ডি’অর জেতেননি কেন?

০২:১৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ব্যালন ডি’অরের স্বাদ প্রথমবার পাওয়ার দৌড়ে আছেন হ্যারি কেইন, লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু আগের বিজয়ী ও এবারের ডার্ক হর্স লিওনেল মেসি ও রদ্রি তাদের সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন। এর আগে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, মিচেল প্লাতিনি, ইয়োহান ক্রুইফ, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইউসেবিও, জিনেদিন জিদান ও রোনালদো। বড় বড় মাত্র কয়েকজন তারকার নাম এখানে, এর বাইরে আরও অনেক গ্রেট সোনালি বল হাতে নিয়েছেন।

কিন্তু বাদ থাকার তালিকায় উল্লেখযোগ্য নামগুলোর শীর্ষে আছেন পেলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ফুটবলের কথা ভাবলেই যাদের চেহারা সবার আগে সামনে ভেসে ওঠে, যারা নিজ নিজ দেশ ও ক্লাবকে এনে দিয়েছেন গৌরবের অধ্যায়! সেই দুই গ্রেট কখনও ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার পেলেন না কেন, সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

কেন পেলে ও ম্যারাডোনা কখনও ব্যালন ডি’অর জেতেননি?

বিজ্ঞাপন

১৯৫৬ সালে চালু হওয়া এই ব্যালন ডি’অর আসলে দেওয়া হতো কেবল ইউরোপের খেলোয়াড়দের। অনেক সময় একে ইউরোপিয়ান বর্ষসেরা ফুটবলার অ্যাওয়ার্ডও বলা হতো। শুরু থেকে চলা এই নিয়মে পরিবর্তন আসে ১৯৯৫ সাল থেকে। ওই বছর থেকে এই পুরস্কারের জন্য ইউরোপিয়ান ক্লাবে খেলা যে কোনো দেশের খেলোয়াড়দের যোগ্য হিসেবে ধরা হতো। তাতে করে ওই বছরই প্রথম অ-ইউরোপিয়ান বিজয়ী হিসেবে এই পুরস্কার পান এসি মিলানের লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার জর্জ উইয়াহ। তারপর থেকে মেসি, ব্রাজিলিয়ান রোনালদো, রোনালদিনহো, রিভালদো ও কাকার হাতে উঠেছিল বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক ব্যক্তিগত পুরস্কার।

২০০৭ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মানে যে কোনো দেশের ফুটবলে খেলা খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অরের জন্য যোগ্য বিবেচিত হন। যদিও এর প্রভাব খুব একটা দেখা যায়নি। সাধারণত ইউরোপিয়ান ক্লাবের খেলোয়াড়দের হাতেই উঠেছে পুরস্কার। তবে এই নিয়মের শতভাগ সুবিধা পেয়েছেন মেসি। আগের নিয়ম থাকলে ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে খেলতে থাকা আর্জেন্টাইন তারকা পুরস্কার জিততে পারতেন না।

তবে পেলে ও ম্যারাডোনা কখনও এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হননি মূলত শুরুর দিকের নিয়মের কারণে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করা ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার তার খেলোয়াড় ক্যারিয়ার শেষ করেন ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্ক কসমসে, প্রথম নন-ইউরোপিয়ান ব্যালন ডি’অর জয়ীর প্রায় ২০ বছর আগে তিনি অবসরে যান।

আর ম্যারাডোনা ওই নিয়ম চালুর দুই বছর আগে ইউরোপিয়ান ফুটবলকে বিদায় জানান। ১৯৮২ সাল থেকে বার্সেলোনায় দুই বছর খেলার পর নাপোলিতে যোগ দেন তিনি। সেখানে সাত বছর কাটান। কোকেইন নিয়ে ড্রাগ টেস্টে ধরা পড়ে ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ১৯৯২ সালে ইতালিয়ান ক্লাব ছেড়ে দেন। রিয়াল মাদ্রিদ ও মার্শেইর আগ্রহ থাকলেও সেভিয়াতে চুক্তি করেন এক বছরের জন্য। ইউরোপে ১১ বছর খেলে ১৯৯৩ সালে আর্জেন্টিনায় ফিরে যোগ দেন নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে। ১৯৯৭ সালে ক্যারিয়ারের শেষটা করেন বোকা জুনিয়র্সে খেলে।